জীবন দর্শন ৬...
যৌনতা জিনিসটাকে আমাদের সমাজ খুব খারাপ চোখে দেখে। কোন কারন ছাড়াই। খাদ্য গ্রহণ বা রেচন পদার্থ ত্যাগের মতই যৌনতা একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রবৃত্তি। সৃষ্টি কর্তা বা সৃষ্টি প্রক্রিয়া যোনি সৃষ্টি করেছে শিশ্ন ঢোকানোর জন্যই। একটা মেয়ে গড়ে সাড়ে ১২ বছর বয়সে ডিম্বানু উতপাদন শুরু করে এবং এর শেষ হয় ৫০ এর কাছাকাছি বয়সে গিয়ে। তার মানে প্রকৃতি চায় অন্ততএই বয়সের মেয়েদের যোনিতে পুরুষেরা শিশ্ন ঢোকাক, সঙ্গম করুক, আর যোনি গর্ভে ঢেলে দিক নিজেদের বীর্য।
অথচ বর্তমান সমাজে এমন একটা আইন ও ধারনা তৈরি করা হয়েছে যেন ১৮ এর আগে কোন মেয়ের সাথে সঙ্গম করা মানেই ধর্ষন নামক এক অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ! যদি সত্যিই তাই হত তাহলে কি প্রকৃতি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ডিম্বানু উতপাদনের ব্যাবস্থা করত? করত না। বরং ১৮ এর কম বয়সী মেয়েদের যোনি পুরুষাঙ্গ ঢোকানোর উপযুক্তই হত না।
লক্ষাধিক বছর আগে যখন আধুনিক মানুষের উতপত্তি হল তখন থেকে আগের শতাব্দির শুরু বা মাঝামাঝি পর্যন্ত কোথাও এরকম অদ্ভুত কোন আইন ছিল না। অথচ আজ প্রায় সব দেশে যৌনতা সম্পর্কে এমন আইন রচিত হয়েছে যা প্রকৃতি বিরোধী। আইন প্রনেতারা নিজেদের ক্ষমতাবলের প্রভাবে ভুলে গেছে আইনের প্রাকৃতিক নিয়মের বিরোধী হওয়া উচিত নয়।
আজকের যুগে শুনতে অশ্লীল লাগতে পারে। কিন্তু সত্যি এটাই প্রাকৃতিক নিয়মে যোনির সৃষ্টি পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করার জন্যই। আর রজঃস্রাব শুরু হওয়া মানেই একটা মেয়ে সঙ্গমের জন্য পুরোপুরি তৈরি। তার যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করালে কোন সমস্যাই নেই। প্রশ্নটা কে কার যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাতে পারবে শুধু তাই নিয়ে।
১৮ বছরের কমের মেয়ের সাথে যৌনতা করা মানেই ধর্ষন আর স্বামী স্ত্রীর বাইরে যৌনতা মানেই সমাজ ভেঙে পরবে, এইসব বস্তাপচা ধারনা ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। যেমন মস্তিস্ক ভাবার জন্য, মুখ খাদ্য গ্রহনের জন্য, হাত কাজ করা আর পা হাঁটার জন্য, তেমনই যোনি আছে পুরুষাঙ্গ ঢোকানোর জন্য। এই সহজ জিনিসটা সহজ ভাবে গ্রহন করতে না পারার কোন কারন নেই। যোনিতে পুরুষাঙ্গ ঢোকালে মেয়েদের কোন ক্ষতি হয় না, বরং ছেলেদের মতই খুব আরাম হয়। তাই প্রকাশ্যে যৌনতা করা অপরাধ, স্বামী ছাড়া অন্য কারো সাথে যৌনতা ঠিক নয়, ১৮ এর কমে যৌনতা করা অপরাধ ইত্যাদি ধারনা ত্যাগ করতে পারলেই মানব জাতির মঙ্গল। যতদিন সমগ্র সমাজ এগুলো মেনে না নিচ্ছে ততদিন অন্তত ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের এইসব বস্তাপচা ধারনা ত্যাগ করে মুক্ত মনে যৌনতাকে গ্রহন করা উচিত। যেমন স্ত্রী পরপুরুষের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হলে উলটে তাকে উতসাহিত করা। বাড়িতে আপন ভাই বোন কম বয়সে যৌনতায় জড়িয়ে পরলে তাদের পাশে থেকে তাদের এই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে উতসাহ দেওয়া।
যৌনতা মানুষকে খুশি রাখে, আনন্দ দেয়, জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। টাকা বা ক্ষমতার নেশায় জড়িয়ে অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলার বদলে যৌনতার মত প্রাকৃতিক ও ক্ষতিহীন নেশায় জড়িয়ে পরা নিজের, পরিবারের এবং সমাজের পক্ষে আসলে খুবই ভাল।
Comments
Post a Comment