মারুমির দেবতা..

 মারুমির দেবতা..

এই ঘটনা বা গল্পটা অনলাইনে চ্যাটে এই আফ্রিকানের কাছে শোনা। তার দাবী তারা আফ্রিকার কঙ্গো দেশের দক্ষিনে নদী ও সমুদ্র দিয়ে ঘেরা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মারুমির আদি বাসিন্দা। এটা তাদের জাতির অভিজ্ঞতার সত্যি গল্প। সত্যি না কল্পনা আমি জানি না।

ঘটনাটা খুবই অদ্ভুত। জঙ্গল, নদী ও সমুদ্র ঘেরা এক আধা বিচ্ছিন্ন  দ্বীপে এক নিগ্রো জনবসতি বাস করত। তাদের উপাস্য দেবতা ছিল সাদা। তাদের কল্পনা ছিল দেবতারা দেখতে মানুষেরই মত। শুধু গায়ের রঙ সাদা। সাদা যে মানুষও হতে পারে সেটা তাদের ধারনা ছিল না।  ১৭৫০ সাল নাগাদ তাদের দ্বীপ ঘেঁসে এক ইউরোপিয়ানদের জাহাজ চলে যায়। তারা জাহাজের ডেকে এক শার্ট প্যান্ট বুট হ্যাট পরা শ্বেতাঙ্গকে দেখতে পায়। একে তাদের ধারনা ছিল সমুদ্রের ওপারের দূর সীমান্তে স্বর্গ। সেখানে সাদা দেবতারা থাকে। তারা আগে জাহাজ দেখেও নি। ফলে তারা ভেবেই নেয় তারা ভগবানকে দেখেছে। আর ভগবান তাদের কোন পাপের কারনে কাছে এসেও তাদের দ্বীপে নামে নি।

এরপর থেকে ধর্মভিরু এই জাতির মন্দিরের দেবতার চেহারা বদলে যায়। ঠিক ওই চোখে দেখা সাদা নাবিকের মত বুট হ্যাট পরা এক সাদা দেবতার মুর্তি বুট পরা পায়ে এক কালো নিগ্রোর বুকে ও মুখে পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায় ৭০-৮০ বছর এই মুর্তির পুজা চলে। তারপরে ১৮২০-৩০ নাগাদ একদল জার্মান ভাষী ইউরোপিয়ান এই দ্বীপে পা রাখে জাহাজে করে এসে। আর তারা অবাক হয়ে দেখে তাদের বাধা না দিয়ে দ্বীপের কালো অধিবাসীরা এসে ওদের বুটে চুম্বন করে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। একই সাথে খুবই পুলকিত ও উত্তেজিত হয় দ্বীপে আসা সাদারা।

তারা ছিল খুবই অত্যাচারী শ্বেতাঙ্গ। ফলে কালোদের এই বিশ্বাসের ফায়দা  তারা সম্পুর্নভাবে তোলে। তখন প্রায় ৩০-৪০ জন সাদা উপস্থিত ছিল। আর ওই দ্বীপে কালো মানুষ তখন হয়ত ২০ হাজার। সাদারা শুধু কালোদের মুখের উপরে বুট পরা পা রেখে হেঁটে ওদের মন্দিরে উপস্থিত হয়। আর সেখানে গিয়েই তারা বুঝতে পারে ঠিক কি কারনে তাদের দেবতা বলে ভুল করে এই ভাবে শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে এই পিছিয়ে থাকা নিগ্রোরা।

তারা সেই ভুল ভাংতে যায় না। বরং মন্দিরে থাকা মুর্তির গায়ে প্রস্রাব করে একজন নিগ্রোকে সেটা চেটে খেতে বলে। এরপরে প্রত্যেক সাদা  নিজেদের বুট জুতো কালোদের দিয়ে চাটিয়ে পরিস্কার করায়। তারপরে কালোদের মুখের ভিতরে প্রস্রাব করে। চুড়ান্ত ভক্তিভরে কালোদের এই কাজ করতে দেখে তারা বুঝতে পারে এদের ভক্তি কিছুতেই কমবে না। উত্তেজিত সাদারা এরপরে কালো মেয়েদের দিয়ে পেনিস চোষায়। সেই শুরু অত্যাচারের। পরের ১২০ বছরের বেশি ধরে এই জিনিস চলতে থাকে।

নিজেদের দেশ থেকে প্রচুর সাদা মানুষকে নিয়ে আসে তারা পরের ১২০ বছরে।  প্রত্যেক সাদাই কালোদের কাছে ভগবানের সম্মান পায়। কালোরা স্বেচ্ছায় তাদের ভগবান সাদাদের স্লেভ হয়ে যায়। সাদারা সেখানে কালো স্লেভদের দিয়ে চাষ করায়, কারখানা খুলে সেখানে কাজ করায়। আর লাভ তো সম্পুর্ন প্রভু সাদাদের প্রাপ্য। ফলে বিনা পরিশ্রমে এখানকার সাদারা ফুলে ফেপে ওঠে। ১৯৬০ নাগাদ এই সুখের দিন শেষের আগে ১০০০ জন মত সাদা ছিল এখানে। আর ৫০ হাজারের বেশি কালো। ফলে সাদাদের স্লেভের অভাব হত না।

কি না করাত তাদের দিয়ে সাদারা? জুতো চাটানো, মুখের ভিতরে পেচ্ছাপ করা, কালো মেয়েদের দিয়ে পেনিস চোসানো তো সামান্য কাজ। কত কালো মানুষ যে এখানে সাদাদের বুট পরা পায়ের লাথি সারা মুখে বারবার খেতে খেতে মারা গেছে তা গুনে শেষ করা যাবে না। অথচ এইভাবে কোন কালোকে লাথি মারতে মারতে বিনা কারনে মেরে ফেললে বাকি কালোদের প্রভুভক্তি আরও বেড়ে উঠত। তারা তখন ভক্তিভরে সেই সদ্য হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ প্রভুর পায়ের বুট জোড়া চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দিত।

কত কালোকে যে চাবকে পিঠের চামড়া তুলে নিয়েছে সাদারা তার ইয়ত্তা নেই। সাদাদের  লাথি মুখে খেতে খেতে কোন কালো মারা গেলে সেই মৃত কালোর চামড়া দিয়ে বুট বানিয়ে সাদারা পায়ে পরত। আর সাদারা যত চুড়ান্ত অত্যাচার করত তত বেশি ভক্তি  বাড়ত কালোদের।

সাদারা অত্যাচার করত আর নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে যত খুশি ওপেন সেক্স করত। কোন বাছ বিচার ছিল না। সেক্স আর কালোদের উপরে অত্যাচার করা এই ছিল তাদের প্রধান বিনোদন। আর কালোরা ভগবান সাদাদের সেবায় দিনরাত স্লেভ হয়ে খেটে চলত।

কংগো স্বাধীন হওয়ার সময়ে সখন এই দ্বীপকে কংগোর অংশ রুপে গ্রহন করা হয় তখন এই কালোরা সেই তথাকথিত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল নিজেদের সাদাদের দাস হিসাবে রাখার জন্য। কিন্তু সফল হয়নি। সেই সাদারা অবশ্য বহু সম্পদ নিয়েই ইউরোপে ফিরেছিল। কিন্তু সেই ভয়ানক সুখের রেসিস্ট দিন গুলো তারা এখনো ভুলতে পারে নি। সেরকম ব্যাবস্থা আবার কোথাও চালু করার চেষ্টা তারা এখনো করে চলেছে।

আর সাদাদের মত ওই দ্বীপের কালোরাও সেই রেসিস্ট সোসাইটির সুন্দর দিন গুলোর কথা ভুলতে পারে নি। সেখান থেকে বহু মানুষ বিভিন্ন উপায় আজও ইউরোপে তাদের প্রাক্তন প্রভুদের  এলাকায় গিয়ে তাদের বুটের নিচে নিজেদের সমর্পন করে আজও। শুধু ইউরোপের কালা আইনের কারনে স্লেভারিটা লুকিয়ে করতে বাধ্য হয় এখন।

Comments

Popular posts from this blog

কালু, তার মা-বোন আর ৩ প্রভু

লুজারের জীবন দর্শন ৫.....

mini stories 3 & 4